$(window).load(function(){ // This runs when the window has loaded var img = $(““).attr(‘src’, ‘YourImagePath/img.jpg’).load(function() { $(“#a1″).append(img); // When the image has loaded, stick it in a div }); var img2 = $(““).attr(‘src’, ‘YourImagePath/img2.jpg’).load(function() { $(“#a2″).append(img2); }); });

গর্ভপাতের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয়

প্রকৃতির নিয়মে যেমন গাছের পাতা ঝরে যায়। তেমনি মেয়েদের শরীরে পরম যতনে লালিত মুকুলও অনেক সময় ঝরে যায়। যাকে বলে গর্ভপাত। বেশিরভাগ প্রায় ৯৫ শতাংশ গর্ভপাতই সাধারণত হয়ে যায় আট থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে। তাই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা ১২ সপ্তাহ অবধি সময়টিকে খুব সাবধানে থাকতে বলেন। বাকি পাঁচ শতাংশ গর্ভপাত হয় ১২ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে।
 
গর্ভপাতের কারণ
১) গর্ভস্থ ভ্রূণে কোনো জন্মগত ত্রুটি।
২) গর্ভাবস্থায় ওভারি ঠিকমতো কর্পাস ল্যুটিয়াম তৈরি না করলে প্রোজেস্টেরন হরমোনের অভাবে গর্ভপাত হতে পারে।
৩) রুবেলা, টক্সোপ্লাসমোসিস, সাইটোমেগালো ভাইরাস বা লিস্টোরিয়ার মতো সংক্রমণের কারণেও বিক্ষিপ্তভাবে গর্ভহানি হয়।
৪) কোনো কোনো ক্ষেত্রে মা ও শিশুর মধ্যে রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি করে ছোট ছোট ব্লাড ক্লট।
৫) নারীর জরায়ুতে যদি কোনো গঠনগত ত্রুটি থাকে তবে ১২ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যায় গর্ভপাত। অনেক সময় জরায়ুতে সেপ্টাম বা পর্দার মতো থাকে যার ফলে হতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত।
৬) গর্ভপাতের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এমনকী এসএলই বা অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম-এর মতো কোলাজেন ভাস্কুলার ডিজিজকেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
৭) গর্ভাবস্থায় ধূমপান, ড্রাগসের নেশা, অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরে প্রচণ্ড আঘাত বা আই ইউ সি ডি’র ব্যবহার সত্ত্বেও অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ হলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে।

গর্ভপাত নির্ণয়
প্রেগন্যান্সির ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার থেকে যদি রক্তপাত শুরু হয় এবং সঙ্গে থাকে তলপেটে ব্যথা। তাহলে গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।তবে গর্ভপাত নিজে নিজে হোক বা তা অপারেশনের মাধ্যমে করা হোক দুইয়েই আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখে নেয়া দরকার জরায়ু সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়েছে কিনা।

গর্ভপাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
সাধারণত একবার বা দু’বার গর্ভপাত হলে বিশেষ কোনো টেস্ট করতে হয় না। তবে গর্ভপাত যদি তিনবার বা তার বেশি হয় তবে তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। এই সমস্যাকে বলা হয় রেকারেন্ট গর্ভপাত। মূলত ছয় ধরনের কারণ এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জেনেটিক পরীক্ষা করা হয় পিতা ও মাতার যাতে বোঝা যায় তাদের মধ্যে কোনো ক্রোমোজোমাল ত্রুটি আছে কিনা। গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে বোঝা যায় সার্ভাইকাল ইনকম্পিটেন্স বা জরায়ু মুখের দুর্বলতা। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, এসআইএস অথবা এইচএসজি পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় জরায়ুর মধ্যে কোনো ফাইব্রয়েড আছে কি না। তবে এটি নির্ধারণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে হিস্টেরোস্কোপি নামক পরীক্ষা যাতে জরায়ুর মধ্যে একটি ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে দেখে নেয়া যায় সত্যি জরায়ুতে কোনো মাংসপিন্ড আছে কিনা।
 
গর্ভপাতের চিকিৎসা
ক্রোমোজোমাল সমস্যার জন্য সাধারণত একবারের বেশি গর্ভপাত হয় না। আর তা যদি সত্যিই বারবার হয় তবে সেক্ষেত্রে দাতার ডিম্বাণু কিংবা দাতার শুক্রাণু অথবা দাতার ভ্রূণ গ্রহণ করে সন্তান সুখ পাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। জরায়ু মুখের দুর্বলতা থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে প্রেগন্যান্সির ১৪ সপ্তাহে জরায়ু মুখে এক বিশেষ ধরনের সেলাই যাকে ম্যাকডোনাল্ড স্টিচ বা সিরোদকার সুচার বলে। যদি এই সমস্যা প্রেগন্যান্সির আগেই চিহ্নিত করা যায় তবে আগেই ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে এই সেলাই দিয়ে দেয়া যায়। যাকে বলে অ্যাবডোমিনাল এনসারক্লেজ। হিস্টেরোস্কোপির মাধ্যমে যদি জরায়ুর মধ্যে কোনো ফাইব্রয়েড বা পর্দা থাকে তা সার্জারির মাধ্যমি সরিয়ে দেয়া যেতে পারে। গর্ভপাত যদি হরমোনাল সমস্যার জন্য হয় তবে বাইরে থেকে সেই সমস্ত হরমোনাল চিকিৎসা করে গর্ভপাত রোধ করা যেতে পারে। ব্লাড ক্লটিং-এর সমস্যার জন্য প্রেগন্যান্সির শুরু থেকেই দেয়া হয় কম মাত্রায় অ্যাসপিরিন ও চিকিৎসা করা হয় হেপারিন নামক এক বিশেষ ধরনের ইনজেকশনের মাধ্যমে যাতে রক্তে ব্লাডক্লট না তৈরি হয়। এছাড়াও অ্যান্টি থ্রম্বিন ‘থ্রি’, প্রোটিন সি এবং প্রোটিন ‘এস’ ডেফিসিয়েন্সির কারণে যদি ব্লাডক্লটিং হয়ে থাকে সেক্ষেত্রেও হেপারিন চিকিৎসা খুব কাজ দেয়। রুবেলা, টক্সোপ্লাসমোসিস, সাইটোমেগালোভাইরাস, লিস্টোরিয়া বিভিন্ন ইনফেকশনের চিকিৎসা করা হয় ভ্যাকশিনের মাধ্যমে। ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় প্রোবায়োটিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের চিকিৎসায়।

মনে রাখবেন প্রথম প্রেগন্যান্সিতে যদি ১০০ জনের মধ্যে ২০ জনের গর্ভপাত হয় তবে ৮০ জনের ক্ষেত্রেই প্রেগন্যান্সি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেবে। প্রথমবারে গর্ভপাত হলে দ্বিতীয়বারে তার সম্ভাবনা মাত্র পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ৯৫ জনের কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ সন্তান হবে। যাঁদের দুইবার গর্ভপাত হয়েছে তাদের আবার সেই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ। অথচ তিনবার গর্ভপাতের পর একই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ২৫শতাংশ। অর্থাৎ ৮৫শতাংশ রোগীদের দু’বার গর্ভপাত এবং ৭৫শতাংশ রোগীদের তিনবার গর্ভপাতের পর কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ সন্তান হবে। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন প্রতিবারে গর্ভপাতের সম্ভাবনাটা খুবই কম। তাই এ নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার বা চিন্তার কিছু নেই। তবে এটুকু ব্লা যেতে পারে যে মানসিক উদ্বেগ, গভীর দুশ্চিন্তা, ভিডিও ডিসপ্লে ইউনিট নিয়ে নিয়মিত কাজ বা ঘন ঘন ট্রাভেলকে দায়ী করার কোনো কারণ নেই। তবে কারণ ধরা যাক বা না যাক এর একটি অবশ্য চিকিৎসা হচ্ছে টেন্ডার লাভিং কেয়ার। মনে রাখবেন গর্ভপাত হওয়ার পর কিন্তু মা গভীর অবসাদের মধ্যে চলে যান এবং অনেকেই এই সময় বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের অন্যদের সাহচর্য চান। কেউ কেউ আবার একাকীত্বই বেশি পছন্দ করেন। যা ভালো লাগে তাই করুন।

COMMENTS

Name

আমার ডাক্তার,17,ইচ্ছেরং,3,কবিতা,1,খাবার,29,খোঁজ খবর,8,গল্প,8,ছেলেদের ত্বক,4,জীবনযাপন,20,টপ,4,পরামর্শ,18,ফিচার,15,ফ্যাশন,7,বিনোদন,10,ব্লগের লেখা,1,ভ্রমণ,16,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,2,রূপচর্চা,17,রেসিপি,21,শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,1,সম্পর্ক,13,সুকুমার রায়,1,
ltr
item
Ekusherjibon | একুশের জীবন | এই সময়ের জীবন ধারা: গর্ভপাতের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয়
গর্ভপাতের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয়
http://www.breakingnews.com.bd/news_image/3561_lifestyle.jpg
Ekusherjibon | একুশের জীবন | এই সময়ের জীবন ধারা
https://ekusherjibon.blogspot.com/2016/09/blog-post_45.html
https://ekusherjibon.blogspot.com/
http://ekusherjibon.blogspot.com/
http://ekusherjibon.blogspot.com/2016/09/blog-post_45.html
true
4911898344882915103
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts আরও আরও পড়ুন Reply Cancel reply Delete By প্রচ্ছদ PAGES POSTS আরও আপনি এগুলো পছন্দ করতে পারেন একুশের জীবন ARCHIVE খুঁজুন সকল পোস্ট Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy