সেবার এক পড়ন্ত দুপুরে বাবার সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটে গেলাম। মনে খুব আনন্দ। পশুর হাটে এত গরু দেখে খুব ভালো লাগছিল। বাবাও খুব খুশি।
কিন্তু বাবার খুশি বেশিক্ষণ থাকল না। বাবা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন গরুর দাম আকাশছোঁয়া।
বাবার বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরে আমি পশুর হাটের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত হাঁটছি। বাজেটের চেয়ে গরুর দাম বেশি হওয়ায় বাবার মুখ মলিন।
শেষে অনেক দর-কষাকষির পর আমাদের স্বপ্নের গরু পাওয়া যায়। যাঁর কাছ থেকে আমরা গরু কিনেছি, সেই মানুষটার কঙ্কালসার দেহ। পাশে তাঁর ১২-১৩ বছরের ছেলে। মুখ বেজার করে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটির কোনো কারণে মন খারাপ।
গরু বিক্রেতার হাতে বাবা টাকা দেওয়ার পর তিনি বাবার হাতে তুলে দিলেন গরুর গলায় বাঁধা ময়লা দড়ি।
গরু কেনার আনন্দ নিয়ে বাবা আর আমি মহা উৎসাহে হাট থেকে ফিরছি। হঠাৎ পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখি আমরা যাঁর কাছ থেকে গরু কিনেছি, তার ছেলেটি ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে। দরিদ্র পিতা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, ‘কান্দিস না বাপ ধন, কান্দিস না।’ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে দেখলাম, ছেলেটি পাগলের মতো ছুটে এসে গরুটাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। নিজেদের পোষা গরুটার প্রতি ছেলেটার এত টান দেখে বুকটা হু হু করে উঠেছিল আমাদের।
তারপর ছেলেটা চোখের পানি মুছে বাবার সঙ্গে চলে গেল।
জোবায়ের ইমরোজআমিশাপাড়া, নোয়াখালী

COMMENTS