ঈদুল আজহায় সারাদিন ব্যস্ততা থাকলেও ঈদের দিন সন্ধ্যায় এবং পরের দুদিন দাওয়াত আর ঘোরাঘুরি তো আর বাদ দেওয়া চলে না। তবে এই মৌসুমের উৎসবে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো।
এ বিষয়ে পরামর্শ দেন দেশীয় ফ্যাশন ঘর সাদাকালোর কর্ণধার তাহসীনা শাহীন।
তিনি বলেন, “আসলে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা এই দুটি উৎসবের মধ্যে সময়ের ব্যবধান খুবই অল্প। আর ফ্যাশনঘরগুলো তাদের বছরের সব থেকে বড় আয়োজনটি তুলে ধরে রোজার ঈদের সময়ই। দীর্ঘ সময় ধরে ওই উৎসবের প্রস্তুতি চলে এবং বেশ সময় নিয়েই তা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা তাছাড়া যেহেতু এই উৎসবে পশু কোরবানি মূল উদ্দেশ্য সব মিলিয়ে পোশাকে তেমন একটা নতুনত্ব থাকে না। ঈদুল ফিতরের নকশা ও স্টাইলগুলোই প্রাধান্য পায় এই ঈদেও।”
কোরবানির ঈদের সকালে কাজের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। তাই নতুন পোশাক পরার প্রবণতা সকালে তেমন একটা থাকে না। বরং সন্ধ্যায় এবং ঈদ পরবর্তী দুদিন নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়ানোর বিষয় থাকে। এমনটাই জানান শাহীন।
এই ঈদে সকালে হালকা ধরনের আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো। বিকাল বা সন্ধ্যায় পছন্দসই জমকালো পোশাক পরা যেতে পারে।
শাহীন বলেন, “আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সারা বছরই সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক বিশেষ উপযোগী। কারণ সুতির পোশাক ঘাম শুষে নেয় এবং বাতাস চলাচল করতে পারে বিধায় বেশ আরামদায়ক। তবে হুটহাট বৃষ্টির বিষয় মাথায় রাখতে হালকা জর্জেটের পোশাক বেছে নেওয়া যেতেই পারে। তাছাড়া এখন ভারী ও হালকা বিভিন্ন ধরনের সুতি পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আরও আছে লিলেন, ক্রেপ, সিফন ইত্যাদি হালকা কাপড়। এগুলোও এই আবহাওয়ায় বেশ আরামদায়ক।”
“পুরো বছর জুড়েই উজ্জ্বল ও গাঢ় রংগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে। তাছাড়া উৎসব মানেই জমকালো পোশাক। তাই যে কোনো রংয়ের উজ্জ্বল শেইডগুলোই বেছে নেওয়া যেতে পারে নিজ নিজ পছন্দমতো”, পরামর্শ দিলেন এই ডিজাইনার।
ব্যস্ততার মাঝেও নতুন ও সুন্দর পোশাক পরা চাই এই উৎসবের দিনগুলোতে। আর সুন্দর আর রুচিশীল পোশাকে ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।
আড়ং: ২৫ অগাস্ট আড়ং-এর উত্তরা কেন্দ্রে ঈদুল আজহায় নতুন সংগ্রহ উপস্থাপন করা হয়। উৎসব উপলক্ষ্যে গাঢ় রংয়ের পাশাপাশি প্যাস্টেল বা হালকা রংগুলোকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবারের নকশায়। নানান ধরনের সিল্ক কাপড়ের উপর সুতার কাজ ও এমব্রয়ডারি নকশা রয়েছে।
রয়েছে ছোট ছেলেদের শেরওয়ানি ধাঁচের পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের সালোয়ার কামিজ। পোশাকের পাশাপাশি চামড়ার ব্যাগ, ক্লাচ, স্যান্ডেলেও এসেছে নতুন কালেকশনে। আরও থাকছে গয়না এবং ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ।
গ্রামীণ ইউনিক্লো: আবহাওয়া এবং অন্যান্য দিক মাথায় রেখে আরামদায়ক ও পরিবেশ উপযোগী পোশাক নিয়ে এসেছে তারা। আয়োজনে থাকছে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, সিঙ্গেল কামিজ, লেগিংস, পালাজ্জো ইত্যাদি। লিনেনের শার্টের দাম পড়বে ১,৪৯০ টাকা, পোলো শার্ট ৯৯০ টাকা, গ্রাফিক টি-শার্ট ৪৯০ টাকা।
ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ কালেকশনে একের অধিক কেনাকাটায় ক্রেতারা পাবেন বিশেষ ছাড়। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, ধানমণ্ডি সায়েন্সল্যাব, কাঁটাবন মোড়, খিলগাঁও তালতলা, নয়াপল্টন, মিরপুর ১ নাম্বার, মোহাম্মদপুর রিং রো, গুলশান বাড্ডা লিংক রোড ইত্যাদি বিক্রয় কেন্দ্রে নতুন এই কালেকশন পাওয়া যাবে।
কে ক্রাফট: নতুন ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টপস, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা, শার্ট, স্কার্ট-টপস, শিশুদের পোশাক ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে ‘কে ক্রাফ্ট’-এর প্রায় সব শোরুমে। আরও থাকছে গয়না, স্যান্ডেল এবং ব্যাগ।
এবারের আয়োজনে সবুজ, বেগুনি, নীল, কমলা, ফিরোজা, সাদা, চাপা-সাদা ইত্যাদি রং প্রাধান্য পেয়েছে। কাপড় হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে বেক্সি কটন, মসলিন, হাফসিল্ক, সিল্ক, নরসিংদী কটন ইত্যাদি। এ সব কাপড়ের উপর স্ক্রিন প্রিন্ট, হাতের কাজ, কারচুপি, অ্যাপলিক, এম্ব্রয়ডারি, ইয়োক ইত্যদি ব্যবহার করা হয়েছে নকশায়। তাছাড়া আরও রয়েছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের কাপড়।
রঙ বাংলাদেশ: শাড়ি, সিঙ্গেল কামিজ, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, শার্ট, টি-শার্ট, বাচ্চাদের পোশাক ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ঈদ আয়োজন। পাশাপাশি থাকছে গয়না, ব্যাগ, মগসহ নানান উপহার সামগ্রী।
কোরবানি ঈদ আয়োজনের শাড়ির দাম পড়বে সাড়ে ৮শ’ থেকে ১৫ হাজার টাকা, সালোয়ার কামিজের দাম ১,৮৫০ থেকে ৮ হাজার টাকা, ছেলেদের পোশাকের দাম সাড়ে ৯শ’ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, শিশুদের পোশাক ৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকা।
বাড়তি ঝঞ্ঝাট এড়াতে অনলাইনেও কেনাকাটার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। ঈদ উপহারের সুবিধার্থে রয়েছে গিফট ভাউচারের সুবিধা।
COMMENTS